মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার।
জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে গতকাল ১১ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বৈঠক করেন। বৈঠকে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির বিষয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন আলজেরিয়া সফরের প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট, পরিবহন সমস্যা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন উৎসের সন্ধান করছে বাংলাদেশ।
আলজেরিয়া এই ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প উৎস হিসেবে সামনে এসেছে। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আলজেরিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি পরিবহনের পথ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, ফলে এটি একটি বিকল্প সরবরাহ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবে আলজেরিয়ার এলএনজি ও এলপিজি রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপের বাজারে গেছে। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনের কারণে দেশটি নতুন বাজার ও অংশীদার খুঁজছে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা হলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় আমদানি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক দেশের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি করলে কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
আলজেরিয়ার সঙ্গে এলএনজি ও এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমান আলোচনা বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন নির্ভর করছে দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্তের ওপর।

