দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। মাত্র চার দিন আগে দাম বাড়ানোর পর এবার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার মূল্য কমে যাওয়ায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন মূল্যতালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
সর্বশেষ এই মূল্যহ্রাসের ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম আবারও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে সোনার দামের এমন পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করে হিসাব-নিকাশের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন দামে কোন সোনা কত?
বাজুসের ঘোষিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।
প্রতি ভরি সোনার ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এসব দামে মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন দর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দামের পার্থক্য ১০ হাজার ২৬৪ টাকা। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের তুলনায় ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৪০ হাজার ৯৯৯ টাকা কম।
চার দিনের ব্যবধানে বদলে গেল সোনার বাজার
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা।
তবে সেই মূল্যবৃদ্ধির মাত্র চার দিন পরই বাজারে বিপরীত চিত্র দেখা গেল। মঙ্গলবার নতুন করে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়।
হিসাব অনুযায়ী, আগের ঘোষিত দামের তুলনায় এবার ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ ৯ অক্টোবর যে পরিমাণ দাম বাড়ানো হয়েছিল, সর্বশেষ মূল্যহ্রাস তার চেয়েও ১ হাজার ৫০ টাকা বেশি।
এ থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সোনার বাজারে দামের ওঠানামা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে কয়েক দিনের এই পরিবর্তন দেখে আগামী দিনগুলোতেও দাম কমতে থাকবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
কেন কমছে সোনার দাম?
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
সোনার মূল্য নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, মুদ্রার বিনিময় হার, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এবারের দাম কমানোর ক্ষেত্রে বাজুস সরাসরি স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার মূল্যহ্রাসের কথা উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সোনার বাজারে মূল্য পরিবর্তন সব সময় একই ধারায় ঘটে না। কোনো সময়ে দাম বাড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা কমে যেতে পারে। আবার মূল্যহ্রাসের পরও বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনে নতুন করে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফলে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসকে সোনার বাজারে স্থায়ী নিম্নমুখী প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে না দেখে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মূল্য সমন্বয় হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।
সোনা কিনতে কতটা সাশ্রয় হবে?
নতুন মূল্যহ্রাসের ফলে সোনা কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের কিছুটা খরচ কমবে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য যাঁরা সোনার অলংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
৯ অক্টোবরের ঘোষিত দামের তুলনায় এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কম লাগবে। একই হিসাবে দুই ভরি সোনার মূল্যে পার্থক্য হবে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। আর তিন ভরির ক্ষেত্রে এই পার্থক্য দাঁড়াবে ৯ হাজার ৭৯৮ টাকা।
তবে অলংকার কেনার ক্ষেত্রে শুধু সোনার নির্ধারিত দাম বিবেচনা করলেই হবে না। অলংকার তৈরির মজুরি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচের কারণে চূড়ান্ত মূল্য ভিন্ন হতে পারে। তাই কেনার আগে সোনার মান, ওজন ও মোট খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সামনে সোনার বাজার কোন দিকে?
অক্টোবরের প্রথমার্ধে সোনার দামের পরিবর্তন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বল্প সময়ের মধ্যেও বাজারদরে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। ৯ অক্টোবর দাম বাড়ার পর ১৩ অক্টোবর তা কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের সামনে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যাঁরা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সোনার দামে সামান্য পরিবর্তনও বেশি পরিমাণে কেনাকাটার ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের জন্যও এমন মূল্য পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দর অনুযায়ী বিক্রয়মূল্য সমন্বয় এবং ক্রেতাদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। তবে এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ সোনার দামের পরিবর্তনের ওপর। আপাতত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যতালিকাই দেশের সোনার বাজারের সর্বশেষ ঘোষিত দর।
তথ্যসূত্র: অবজারভার অনলাইন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬।

