ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের সার শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নমনীয় সুদের ঋণে তিন ধরণের নতুন কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে চীনের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাংডিয়েন উইক্সি টেকনোলজি কো লিমিটেড। সম্প্রতি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি অঞ্চলের প্রধান প্রধান রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলো পরিদর্শনকালে চায়না প্রতিনিধি দলের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ক্যাংডিয়েন টেকনোলজির চেয়ারপারসন রিতা লু বিসিআইসি প্রধানের কাছে ইউরিয়া সার, ফসফরিক এসিড এবং মিশ্র বা এনপিকেএস সার কারখানা প্রতিষ্ঠার কারিগরি ও অর্থনৈতিক রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন।
বিসিআইসির নতুন চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়া গত ৯ ও ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিসিএল), চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), ড্যাপ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) এবং রাঙ্গামাটির ঐতিহাসিক কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। টিএসপি কমপ্লেক্সে পরিদর্শনের সময় চীনা এই প্রতিনিধি দলের সাথে বিসিআইসির আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দামের অস্থিরতা ও আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক নমনীয় শর্তে বড় ধরণের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বাস্তবায়ন হলে দেশেই ইউরিয়ার পাশাপাশি ফসফরিক এসিড ও গুরুত্বপূর্ণ এনপিকেএস সার উৎপাদন ত্বরান্বিত হবে।
প্রস্তাবিত নমনীয় ঋণ বা ‘সফট লোন’ ব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী সুদের হার এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থ পরিশোধের সুযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিশ্ববাজার থেকে কোটি কোটি ডলার খরচ করে রাসায়নিক সার ও এর মূল কাঁচামাল আমদানি করে থাকে, যার ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ তৈরি হয়। ইউরিয়ার পাশাপাশি সরাসরি ফসফরিক এসিড ও এনপিকেএস তৈরির নিজস্ব কারখানা থাকলে দেশে মাটির পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করার সার যেমন সহজে পাওয়া যাবে, তেমনি স্থানীয় কৃষি উৎপাদনও সুসংহত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় সার কারখানাগুলোর মাধ্যমে ভারী প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং হাজার হাজার স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরির ভালো একটি সুযোগ তৈরি হবে।
পরিদর্শনকালে বিসিআইসি চেয়ারম্যান সরাসরি কারখানার উৎপাদন লাইন, নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিপণন সংক্রান্ত তথ্য সরেজমিনে তদারকি করেন। তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় সভার সময় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে সময়মতো নিরবচ্ছিন্ন কাঁচামাল সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতি নিয়মিত মেরামতের বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতে কর্মকর্তা, শ্রমিক, কর্মচারী ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের যৌথভাবে সমন্বিত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। সার খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন চীনা বিনিয়োগের প্রস্তাব যৌথভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

