চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম চার মাসের কম সময়ে বাংলাদেশে প্রবাসীরা প্রায় ৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ৯৮৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
২০২৫ সালের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৭৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১১১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রবাসী আয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১২৯ কোটি ডলার।
২০২৫ সালের অক্টোবরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৮ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
এছাড়া ১২ অক্টোবর একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের সুবিধা এবং প্রবাসীদের আস্থার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে এবং অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে হলে প্রবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

