কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ২০টি অবৈধ জালের বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। নদজুড়ে আড়াআড়িভাবে এসব জাল বসিয়ে মাছ শিকার করায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন। একই সঙ্গে জালে আটকা পড়ছে পোনামাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। ব্যাহত হচ্ছে মালবাহী নৌযান চলাচলও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদের বিভিন্ন স্থানে বাঁশ, কাঠ ও বাঁশের ভানা দিয়ে উঁচু কাঠামো তৈরি করে তাতে খরা, ড্রিম ও কারেন্ট জাল বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও নদের এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত টানানো হয়েছে জাল। এতে মাছের অবাধ চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জালে দেশি প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে,কয়েক মাস ধরে নদের বিভিন্ন অংশে এসব জালের বাঁধের বিস্তার বেড়েছে। কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ও উত্তর চরপুক্ষিয়া, চকবাজার, পাইকান সেতুসংলগ্ন এলাকা, লোহাজুরীর পূর্বচর পাড়াতলা এবং পোড়াদিয়া সেতু পর্যন্ত জালের বাঁধ দেখা গেছে। নদটির অপর পাড়ে মনোহরদী উপজেলার চরগোহালবাড়িয়া, পাইকান ও বড়চাপা এলাকাতেও একইভাবে জাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ায় দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কমছে মাছের প্রাপ্যতাও। এতে সাধারণ জেলে ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দক্ষিণ চরপুক্ষিয়ার কৃষক আফাজ উদ্দিন বলেন, এসব জালে সব মাছ ধরে নেওয়ায় এখন ঠেলা জাল নিয়ে নদে গেলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সজল বলেন, নদের এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত লম্বা জাল দিয়ে বাঁধ তৈরি করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে পোনামাছসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। কয়েকজন ব্যক্তি এতে লাভবান হলেও নদীর মাছের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।
মাছ শিকারের পাশাপাশি নৌযান চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে প্লাস্টিকের পাইপবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে জালের কারণে আটকে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, নদের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এভাবে জাল বসিয়ে রাখায় পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে।
কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, প্রবহমান নদে এভাবে জালের বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা যায় না। কারেন্ট জালের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রবহমান নদে জালের বাঁধ দেওয়া নিষিদ্ধ। অবৈধ জাল পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হবে। মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত অবৈধ জালের বাঁধ অপসারণ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। তাঁদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন দেশি মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে নদনির্ভর মানুষের জীবিকা এবং নৌপথে পণ্য পরিবহনও হুমকির মুখে পড়বে।

