দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বাজারের জন্য ১০ হাজার টন চিনি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক পণ্য ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়টি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে সরবরাহ করবে।
প্রতি কার্গো এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এলএনজির তাৎক্ষণিক বাজারমূল্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড জাপান-কোরিয়া মার্কারের তুলনায় প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপীয় এককে ১০ সেন্ট কম দরে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ট্রাফিগুরাকে সরবরাহকারী হিসেবে সুপারিশ করে প্রস্তাবটি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সামনে উপস্থাপন করে।
চুক্তিটি সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রয়োজন অনুসারে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নয়টি কার্গোর সংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছিল।
জ্বালানির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতেও বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডা থেকে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে এসব সার আমদানি করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি।
মোট সারের মধ্যে ৮২ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার রয়েছে। বাকি অংশ মিউরিয়েট অব পটাশ সার।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সময়মতো সার সংগ্রহের সিদ্ধান্ত দেশের কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাষের মৌসুমে ইউরিয়া, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট ও পটাশ সারের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণে আগাম আমদানি নিশ্চিত করে দেশে পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে একই বৈঠকে ১০ হাজার টন চিনি কেনার একটি প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে দুই ধাপে এই চিনি কেনা হবে। মোট ক্রয়মূল্য হবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।
সব মিলিয়ে একই বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নয় কার্গো এলএনজি আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা, ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা এবং ১০ হাজার টন চিনি কেনার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ ধরে রাখাই এসব সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

