দেশের বাজারে চিনির সরবরাহ নিশ্চিত করতে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টন চিনি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুইটি পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই চিনি কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
প্রথম প্রস্তাবের আওতায় ৫ হাজার টন চিনি কেনা হবে। প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য করসহ এই চালানের মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় প্রস্তাবেও আরও ৫ হাজার টন চিনি কেনার কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি কেজির দাম হবে ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। করসহ মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
দুই প্রস্তাব মিলিয়ে সরকার মোট ১০ হাজার টন চিনি কিনবে। এতে প্রতি কেজি চিনির গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ১০৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
দুটি প্রস্তাবেই সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই চিনি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। সরকারি ইলেকট্রনিক ক্রয়ব্যবস্থা ব্যবহার করে দরপত্র কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
ক্রয় করা চিনি ৫০ কেজির বস্তায় সরবরাহ করা হবে।
সরকারের এই ক্রয় সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের চিনির বাজারে সরবরাহ, আমদানি ব্যয় ও খুচরা মূল্য নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। সরকারি পর্যায়ে বড় পরিমাণ চিনি কেনা হলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তোলায় তা ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে দুটি চালানে প্রতি কেজির ক্রয়মূল্যে এক টাকা পার্থক্য থাকবে। প্রথম ৫ হাজার টনের জন্য কেজিপ্রতি ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের জন্য ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা পরিশোধ করা হবে।
সব মিলিয়ে ১০ হাজার টন চিনি সংগ্রহে সরকারের ব্যয় হবে ১০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মেঘনা সুগার রিফাইনারি এসব চিনি সরবরাহ করবে।

