বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আয়োজনে প্রদর্শনীর প্রেক্ষাপটে এই অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্কের গণ্ডিতে না থেকে বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে আরও সমতাভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইইউর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মাইকেল মিলার জানান, দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রবল তাগিদ রয়েছে। এই প্রদর্শনীর আয়োজনেও সেই গতিশীলতা তৈরির আগ্রহ প্রতিফলিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই ফোরামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে ও সম্প্রসারণ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অত্যন্ত আগ্রহী।
সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, জাহাজ মেরামত, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও অফশোর প্রযুক্তি খাতের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পণ্য রপ্তানির ওপরই এই সম্পর্ক বেশি নির্ভরশীল বলে ধারণা করা হয়। এখন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের কথা সামনে আনায় বোঝা যায়, ইইউ সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে চাইছে। বাংলাদেশের জন্য এটি সুযোগ হতে পারে, কারণ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি এলে নতুন কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়তে পারে।
তবে কোন কোন খাতে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে বা প্রযুক্তি স্থানান্তরের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বিস্তারিত কিছু জানাননি। সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা না এলে এই আগ্রহ বাস্তবে কতটা রূপ নেবে, তা বলা কঠিন। আগামী এপ্রিলের ফোরামে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র মিলতে পারে।

