ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর; এই তিন কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়) শেখ মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতাদের কোনো অতিরিক্ত বিলম্ব সুদ বা জরিমানা গুনতে হবে না।
সম্প্রতি জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর অংশ হিসেবে প্রতি তিন কর মেয়াদ বা কোয়ার্টার সমাপ্তির পর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। তবে সরকারের নতুন এই আইনি সংশোধনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন পোর্টাল বা ই-ভ্যাট সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু বড় সংস্কার করার প্রয়োজন পড়েছিল। সিস্টেম পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত যাতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিপাকে না পড়েন, সেই বিবেচনা থেকেই এনবিআর এই বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপ-ধারা (২)-এ দেওয়া আইনি ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে রিটার্ন দাখিলের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে এনবিআর। করদাতারা যাতে ঘরে বসেই কোনো ডিজিটাল সমস্যা বা সার্ভার জটিলতা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের হিসাব সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্যই মূলত ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মটি নতুন নিয়মের আলোকে আপডেট করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসা খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই নমনীয় সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও সহজ করবে এবং ই-রিটার্ন দাখিলে সাধারণ করদাতাদের উৎসাহিত করবে।
নতুন করে অতিরিক্ত সময় পাওয়ার ফলে দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা বাড়তি জরিমানা ছাড়াই আইন মেনে সঠিক রাজস্ব জমা দিতে পারবে। একই সঙ্গে অনলাইন সিস্টেমে প্রশাসনিক সংস্কার কাজ শেষ হলে পরবর্তী মাসগুলো থেকে করদাতারা খুব সহজেই তাদের নির্ধারিত ক্যাশ ফ্লো ও ভ্যাট ইনপুট ক্রেডিট নিয়মিত আপডেট করতে পারবেন। ফলে এনবিআরের এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ী সমাজ একটি ইতিবাচক এবং ব্যবসায়বান্ধব পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।

