বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনার খরচ ও পণ্য সরবরাহের সময় বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের অন্যতম বড় পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স। স্পেনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের অধীনেই রয়েছে জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জারা। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, বাংলাদেশের নীতিমালায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে ক্রয়াদেশ ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে চলে যেতে পারে।
রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল মুকতাদিরের সঙ্গে ইন্ডিটেক্সের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে ইন্ডিটেক্সের পক্ষ থেকে কয়েকটি নীতিগত ও পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ধরনের সুতার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত গুদামসুবিধা প্রত্যাহার, স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য পণ্য স্থানান্তর বা পুনরায় পরিবহনের কিছু সুবিধা বাতিল।
প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নীতিমালায় ঘনঘন পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এতে পণ্যের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের পোশাক কেনে ইন্ডিটেক্স। এ পরিমাণ ক্রয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচ বিদেশি ক্রেতার মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ বলেন, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলার সুতার ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত গুদামসুবিধা প্রত্যাহারের পর স্থানীয় বাজারে সুতার দাম বেড়েছে। এতে পোশাক উৎপাদনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও দুর্বল হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সুবিধা প্রত্যাহারের পর স্থানীয় সুতার দাম প্রতি কেজিতে গড়ে ৩ দশমিক ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫৫ সেন্ট।
নাহিদের মতে, কাঁচামালের খরচ বাড়লে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দামও বাড়ে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, শুধু ইন্ডিটেক্স নয়, এইচঅ্যান্ডএম ও সিঅ্যান্ডএর মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বাংলাদেশে উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয় বাড়তে থাকলে ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে নীতিগত জটিলতা ও কাঁচামালের বাড়তি ব্যয় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহের সময় কমিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা। তবে ক্রয়াদেশ সত্যিই অন্য দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

