নতুন স্পট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারীদের তালিকাভুক্তির আবেদনের সময় আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা। আগে আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৯ অক্টোবর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
আরও বেশি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীকে আগ্রহী করতে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো আবেদনের সময় বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের যোগ্যতার শর্তও শিথিল করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।গত ২৯ আগস্ট সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তখন আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর।
নতুন শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য অথবা সংশ্লিষ্ট সেবা সরবরাহের অন্তত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে শুধু এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট সেবা সরবরাহের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া আবেদনকারীর ন্যূনতম তারল্যসম্পদের শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে। আগের নিয়মে কমপক্ষে ৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ তারল্যসম্পদ, কার্যকরী মূলধন, ঋণসুবিধা অথবা ব্যাংক সচ্ছলতার সনদ দেখাতে হতো।
পেট্রোবাংলার ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, আরও বেশি সরবরাহকারীকে প্রতিযোগিতায় আনতে এবং এলএনজি কেনার ব্যয় কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত স্পট এলএনজি কেনার দরপত্রে অংশ নেয়।দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশকে অস্থির আন্তর্জাতিক স্পট বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
চলতি মাসে সরবরাহের জন্য দুটি স্পট এলএনজি কার্গো কিনেছে বাংলাদেশ। ৯-১০ অক্টোবর সরবরাহের জন্য টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২৮ দশমিক ৯৫ ডলার দরে একটি কার্গো কেনা হয়। আর ২৭-২৮ অক্টোবর সরবরাহের জন্য ভিটল এশিয়া পিটিই সিঙ্গাপুর লিমিটেডের কাছ থেকে আরেকটি কার্গো কেনা হয় প্রতি এমএমবিটিইউ ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলারে।
পেট্রোবাংলার ওই কর্মকর্তার মতে, এ বছর স্পট বাজার থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে এগুলো বাংলাদেশের দেওয়া সর্বোচ্চ দামগুলোর মধ্যে রয়েছে। এই দুটি কার্গো কেনার পর পেট্রোবাংলা আর কোনো স্পট এলএনজি দরপত্র আহ্বান করেনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ স্পট বাজার থেকে ৪৯টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বাজার থেকে কেনা কার্গোর সংখ্যা প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ সাধারণত প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুটে ১ হাজার ২৫ থেকে ১ হাজার ১০০ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট মোট তাপমানের এলএনজি আমদানি করে। আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়।
এলএনজি কার্গোগুলো সাধারণত ডেলিভার্ড এক্স শিপ (ডিইএস) ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়। এসব জাহাজের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার।গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে সরবরাহ সীমিত রাখতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে।
সংস্থাটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর দেশে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ২৫৫ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা এলএনজির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৯৫ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।
নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিল করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং কেনাকাটার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় পেট্রোবাংলা। তবে এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কতটা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির দাম কতটা কমবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

