গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। একই সঙ্গে অবিলম্বে এই সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটির মতে, প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পেছনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জন দুর্ভোগ হয়েছে এবং ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করাই হতো অধিক যৌক্তিক, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত।
সংস্থাটির মতে, বিআরটি করিডরকে সাধারণ সড়কে রূপান্তর করা হলে তা বেসরকারি বাস মালিক ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকারীদের সুবিধা দেবে। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, টেকসই পরিবহন পরিকল্পনা ও গণপরিবহনবান্ধব নগরায়ণের পরিপন্থী। গণপরিবহনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়েও এতে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আইপিডি একে সুস্পষ্ট নীতিগত স্ববিরোধিতা বলে উল্লেখ করে। তাদের ভাষ্য, সরকার একদিকে ঢাকায় বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে প্রায় সম্পন্ন একটি বিআরটি প্রকল্প বাতিল করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অথচ আরও মাত্র ১ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয়ে বিআরটি চালু করা সম্ভব, যা মেট্রোরেলের তুলনায় অনেক কম খরচের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি র্যাম্পের কারণে পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল ধ্বংসের আশঙ্কায় পরিবেশবাদী, পেশাজীবী ও নাগরিকেরা প্রতিবাদ জানালে কর্মকর্তারা পিপিপি চুক্তির কথা বলে তা উপেক্ষা করেছেন। অথচ পিপিপি অর্থায়ন বিআরটি বাতিলে বাধা হয়নি। আইপিডির মতে, এতে স্পষ্ট যে গুটিকয়েক আমলা ও স্বার্থান্বেষী মহল অবকাঠামো সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা রাখছে, আর জনস্বার্থ, পরিকল্পনা ও পরিবেশগত উদ্বেগ উপেক্ষিত হচ্ছে।
নির্মাণকাজ চলাকালে গাজীপুরবাসী বছরের পর বছর যানজট, সময়ের অপচয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সয়েছেন। প্রকল্প বাতিল হলে সেই দুর্ভোগ অর্থহীন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
আইপিডি নকশা, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, দায় নির্ধারণ না করে প্রকল্প বাতিল করলে ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পে দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।
পাঁচ দফা সুপারিশে আইপিডি ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন, অসমাপ্ত কাজ শেষ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে নগর পরিকল্পনাবিষয়ক সংস্থাটি। সংস্থাটির মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো পরিত্যাগ করা একটি নেতিবাচক নজির স্থাপন করে, তাই সরকারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

