সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজের যে বিপুল ক্ষতি হয়, তা কমাতে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও সেন্সরভিত্তিক সংরক্ষণব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা। উপযুক্ত গুদামের অভাবে ফসল তোলার পর পেঁয়াজ নষ্ট হয়, ফলে বছরের শেষ দিকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয় দেশকে।
বাকৃবির একদল গবেষক আইওটিনির্ভর ও বিনের আকৃতির একটি সংরক্ষণ ইউনিট তৈরি করছেন। এতে ৫০০ কেজি পেঁয়াজ রাখা যাবে। ইউনিটটি নিজে থেকেই ভেতরের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক রোস্তম আলী জানান, এই ব্যবস্থা স্থাপনে খরচ পড়বে প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং এটি অন্তত ১০ বছর ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ খরচ কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তা আরও কমে যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরই কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে গবেষণাটি শুরু হয় ২০২৫ সালের মার্চে। অধ্যাপক আলী বলেন, তাঁদের লক্ষ্য তুলনামূলক কম খরচে এমন আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা তৈরি করা, যা তাপমাত্রা, আর্দ্রতাসহ অন্যান্য পরিবেশগত অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে পেঁয়াজের মান দীর্ঘ সময় ধরে রাখবে।
তার ভাষ্য, সংরক্ষণাগারের ভেতরের পরিবেশে পরিবর্তন এলে সেন্সর তা শনাক্ত করবে এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থায় সমন্বয় ঘটাবে। এর মধ্যে ফ্যান চালানো বা বন্ধ করার কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে।
এ পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ফলাফলে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ক্ষতি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ কমানো সম্ভব। তবে গবেষণা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গবেষকেরা পেঁয়াজের ওজন কমে যাওয়া, পচন, অঙ্কুরোদগম ও মানের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করছেন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল উৎসাহব্যঞ্জক।
ফলাফল সন্তোষজনক থাকলে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা মিললে প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা আছে গবেষকদের। তাঁদের মতে, এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী একটি মডেল তৈরি করা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় প্রায় ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টন, চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টনের মতো। উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

