চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বন্দরের অভ্যন্তরে প্রায় ১০০টি কনটেইনার তিন থেকে চার মাস ধরে পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা। এসব চালানের পণ্য ঘোষণা দেওয়া হলেও আমদানিকারকদের একটি অংশ শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা এবং চালানগুলোর আইনানুগ নিষ্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পুরোনো তাঁতযন্ত্র আমদানির আড়ালে অন্য পণ্য এনে শুল্ক ফাঁকির একাধিক ঘটনা শনাক্ত করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা। দুটি চালানের তদন্তে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৮ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কাস্টমস। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কিছু আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান কায়িক পরীক্ষার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। প্রভাবশালী মহলের চাপের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পুরোনো তাঁতযন্ত্রের চালানে মিলল অন্য পণ্য
নরসিংদীর মাধবদী ভাটাপাড়া এলাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইল চলতি বছরের মে মাসে চীন থেকে ব্যবহৃত তাঁতযন্ত্র আমদানি করে। চালানটির পণ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে ঘোষিত পুরোনো যন্ত্রের পাশাপাশি কাঠের কাজে ব্যবহৃত ৩৫ টনের বেশি স্ক্রু পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৩০ সেপ্টেম্বরের ৬৯২ নম্বর আদেশে বলা হয়েছে, আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রিতে পুরোনো তাঁতযন্ত্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় পণ্যের পরিমাণে অসংগতি এবং ঘোষণার বাইরে থাকা পণ্য শনাক্ত হয়।
কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, চালানটিতে ৮২ লাখ ২ হাজার ৭৫১ টাকা ৫২ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় কমিশনার মুহা. মাহবুবুর রহমান আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা আরোপ করেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চালানটিতে শুধু ঘোষিত পণ্যের পরিমাণের পার্থক্য পাওয়া যায়নি; ঘোষণার বাইরে অন্য পণ্যও শনাক্ত হয়েছে। ফলে বিষয়টি সাধারণ ওজনের অসংগতি না থেকে সম্ভাব্য শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় পরিণত হয়।
কীভাবে সামনে এল অনিয়ম?
জাগো নিউজের হাতে আসা কাস্টমসের আদেশ অনুযায়ী, আমদানিকারকের পক্ষে আনাতুল হাসান সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড ২০২৬ সালের ১ জুন কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় সি-৯৯৭৯৯১ নম্বর বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জুন কাস্টমসের এআইআর শাখা চালানটি আটকে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন ৪ জুন বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে পরীক্ষার জন্য চালানটি হাজির করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান তা হাজির করতে পারেনি বলে কাস্টমসের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর দুই দফা চিঠি দেওয়ার পর আমদানিকারক উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। ৮ জুলাই উচ্চ আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের পর চালানটি কায়িক পরীক্ষা ছাড়াই খালাসের অনুরোধ জানানো হয়। তবে আদেশে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা থাকায় কাস্টমস পুনরায় পরীক্ষার জন্য তিনবার চিঠি দেয়।
শেষ পর্যন্ত ১০ আগস্ট বন্দর ট্রাফিক ও নিরাপত্তা বিভাগ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস গোয়েন্দা এবং সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাধ্যতামূলকভাবে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষিত ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ কেজি পুরোনো তাঁতযন্ত্রের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭০ কেজি। অর্থাৎ ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ২৫ হাজার ১২০ কেজি কম ছিল। একই সঙ্গে ৩৫ হাজার ৩১০ কেজি কাঠের স্ক্রু পাওয়া যায়, যা ঘোষণায় উল্লেখ ছিল না।
পরে আমদানিকারক আবারও আদালতের শরণাপন্ন হন। কাস্টমসের আদেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর আবেদন খারিজ করে কাস্টমস আইন অনুসারে চালানটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপর কমিশনার এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ দেন।
দ্বিতীয় চালানেও একই ধরনের অনিয়ম
একই সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নরসিংদীর মাধবদী এলাকার আরেক আমদানিকারক মেসার্স এস এন টেক্সটাইলের চালানেও একই ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ২০২৬ সালের ১ জুন সি-৯৯৭৬৬৭ নম্বর বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জুন চালানটি আটকে শতভাগ কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এআইআর শাখা।
রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইলের চালানের মতো এ ক্ষেত্রেও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ আগস্ট চালানটিরও শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
পরীক্ষায় ঘোষিত ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ কেজি পুরোনো তাঁতযন্ত্রের পরিবর্তে পাওয়া যায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৮ কেজি। অর্থাৎ ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ২৯ হাজার ২৪২ কেজি কম ছিল। পাশাপাশি ৩৯ হাজার ২০২ কেজি তিন চাকার যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়, যা ঘোষণায় উল্লেখ ছিল না।
কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এ চালানে ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৩ টাকা ২৪ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা ৬৯৩ নম্বর আদেশে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
দুটি চালানের ঘটনাই দেখায়, আমদানি করা পণ্যের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের অমিল থাকলে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পুরোনো তাঁতযন্ত্রের ভেতরে অন্য পণ্য আনার অভিযোগ
কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো তাঁতযন্ত্র আমদানির কিছু চালানে যন্ত্রের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে অন্য পণ্য আনার সুযোগ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। আগে এসব চালানের ক্ষেত্রে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা না করে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে খালাসের সুযোগ থাকায় ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্ত করা কঠিন হতো বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কাস্টমসের এআইআর শাখা চলতি বছরের শুরুতে কয়েকটি পুরোনো তাঁতযন্ত্রের চালান যাচাই করে মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণ পাওয়ার পর এ ধরনের চালানে নজরদারি বাড়ায়। এরপর কায়িক পরীক্ষার ক্ষেত্রে কিছু আমদানিকারকের অসহযোগিতার অভিযোগ সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো তাঁতযন্ত্রের অন্তত ১০টি চালান পরীক্ষা করে প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে কাস্টমস এআইআর।
তবে এসব ঘটনায় কারা কতটা জড়িত, তা নির্ধারণের জন্য প্রতিটি চালানের নথি, পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগটি আইনগতভাবে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক বিষয় নয়।
সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য কী?
রিমি সরকার দোয়া টেক্সটাইল এবং এস এন টেক্সটাইলের চালান খালাসের সঙ্গে যুক্ত আনাতুল হাসান সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে জাগো নিউজ।
প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নরসিংদীর ইউনিস্টার টেক্সটাইলের একটি চালানেও শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল। ওই চালান খালাসের দায়িত্বে থাকা কোস্টাল ট্রেডিং কোম্পানির কর্ণধার নজরুল ইসলাম সরকার জানান, চালানটি খালাসের কাজ করেছিলেন শামসুল কবীর।
শামসুল কবীর বলেন, আগে পুরোনো তাঁতযন্ত্রের চালানে নিয়মিত কায়িক পরীক্ষা করা হতো না। যন্ত্রের ফাঁকা জায়গার মধ্যে অন্য পণ্য আনা হলেও তা শনাক্ত না হওয়ার সুযোগ ছিল। এখন কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের পণ্য ধরা পড়ায় এমন আমদানি কমে আসছে বলে তাঁর বক্তব্য।
প্রভাবশালী মহলের চাপের অভিযোগ
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, বন্দরে প্রায় ১০০টি কনটেইনার তিন থেকে চার মাস আগে আমদানি করা হলেও সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের একটি অংশ শুল্কায়নের জন্য এগিয়ে আসছেন না। এসব চালানের কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বিলম্বিত হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
কাস্টমসের এআইআর শাখার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছেন কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া বক্তব্যের বাইরে এসব অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনের সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যবসায়ীকে অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না।
কাস্টমসের অভিযানে কত রাজস্ব আদায় হয়েছে?
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত এবং জরিমানা আদায়ে এআইআর শাখা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে ৮৩টি চালানে জরিমানাসহ ২৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৪ টাকা, আগস্ট মাসে ৬০টি চালানে ২০ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৬৮টি চালানে ১৩ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯২ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাস্টমসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) শরীফ মোহাম্মদ আল আমীন জানান, সেপ্টেম্বর মাসে এআইআর শাখা ১৬৬টি চালান আটকে দেয়। এর মধ্যে কায়িক পরীক্ষায় ৯০টি চালানে অনিয়ম পাওয়া যায়। ৩৩টি চালান নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব এবং ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বর মাসের ৩৩টি চালান তখনো অনিষ্পন্ন ছিল। এর আগে আগস্ট মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ১১টি চালান থেকে জরিমানা ও ফাঁকি দেওয়া শুল্ক মিলিয়ে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
শরীফ মোহাম্মদ আল আমীনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় জড়িত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। বারবার একই ধরনের ঘটনায় জড়িতদের কালো তালিকাভুক্ত করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাস্টমসের কার্যক্রম প্রভাব ও চাপমুক্ত রেখে পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজস্ব সুরক্ষায় এখন কী প্রয়োজন?
চট্টগ্রাম বন্দরের এসব ঘটনা আমদানি পণ্যের ঘোষণা যাচাই এবং শুল্কায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। পণ্যের প্রকৃত ধরন ও পরিমাণের সঙ্গে আমদানির নথির মিল নিশ্চিত করা না গেলে সরকার রাজস্ব হারাতে পারে। অন্যদিকে, পরীক্ষার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে বন্দরে কনটেইনার জমে থেকে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
তাই একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ চালানের ক্ষেত্রে কার্যকর কায়িক পরীক্ষা এবং তথ্যভিত্তিক নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কাস্টমসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা আদালতের আশ্রয় নেওয়ার আইনগত অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে চালান নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
একই সঙ্গে, কোনো আমদানিকারক বা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত, যথাযথ শুনানি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের বিষয়টি শুধু রাজস্ব আদায়ের সমস্যা নয়; এটি আমদানি ব্যবস্থাপনা, বন্দর কার্যক্রমের দক্ষতা এবং জবাবদিহির সঙ্গেও সম্পর্কিত। নিয়মিত নজরদারি, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দ্রুত আইনানুগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারকদের জন্যও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমানো সম্ভব হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ

