চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩.৮৯ শতাংশে, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ১৮ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরে এডিপির জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। রোববার, ২৫ অক্টোবর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫.০৯ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে, এই হার ছিল ৪.৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা আরও কমে ৩.৮৯ শতাংশে নেমেছে।
এর বিপরীতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৭.৫০ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে হার ছিল ৮.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এডিপির আওতায় সরকার সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেয়। এসব প্রকল্পের কাজ যত এগোয়, ততই বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর হলে অর্থ খরচও কম হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি সেবা সম্প্রসারণ ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন বাধার কারণে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কমে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তথ্যও সেই ধীরগতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
সাধারণত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৭ শতাংশের ওপরে থাকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে তা ৪ শতাংশও অতিক্রম করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে বরাদ্দের অর্থ শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকল্পের কাজ সময়মতো এগিয়ে নেওয়া এবং ব্যয়ের গতি বাড়ানোই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

