নিত্যপণ্যের বাজারে অযৌক্তিক দামবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট ও ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চলতি মাসে সারা দেশে ১ হাজার ১৭০টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। মোট জরিমানার পরিমাণ ১ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জরিমানার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ধ্বংস, পণ্য জব্দ, প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাজার তদারকি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর অক্টোবরের শুরু থেকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান জোরদার করে। ভোজ্যতেল, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম, ফল, মসলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের বাজার বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য অভিযান
- ১৫ অক্টোবর, খাতুনগঞ্জ: একটি গোডাউনে ১৬০ থেকে ১৭০ টন এলাচ মজুতের তথ্য মেলে। কৃত্রিম সংকটের চেষ্টায় হোসেন করপোরেশনকে ৫০ হাজার টাকা এবং মূল বস্তায় উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ না থাকায় আরাফাত ট্রেডিংকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
- ১০ অক্টোবর, পাবনার ফরিদপুর: দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, জেলি ও ভোজ্যতেল মেশানোর প্রমাণ মেলে। দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সাময়িক সিলগালা এবং একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- ৮ অক্টোবর, মধ্য বাড্ডা: কফি ও সসের নকল প্যাকেজিংয়ের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
- ১৯ অক্টোবর: রাসায়নিকে পাকানো কলা এবং ইউরিয়া ফরমালডিহাইডের ড্রামে রাখা প্রায় ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল ধ্বংস করা হয়।
- ৫ অক্টোবর, কারওয়ান বাজার: রং মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়।
- ১৪ অক্টোবর: মেয়াদোত্তীর্ণ রঙে কেক তৈরির দায়ে একটি বেকারি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে একটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।
এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বেশি দাম নেওয়া, ভাউচার না রাখা, মূল্যতালিকা না টাঙানো এবং বিশেষ পাইপে গ্যাস সরিয়ে ওজনে কম দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। কারচুপির সরঞ্জাম ও সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের প্রয়োজনের বেশি পণ্য না কিনতে, মূল্যতালিকা ও মেয়াদ দেখে কিনতে এবং রসিদ রাখতে বলা হয়েছে। অনিয়মের শিকার হলে ভোক্তা অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে।

