দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৮ জনের। এ ছাড়া নতুন করে ১ হাজার ৩৮৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনায় একজন করে মারা গেছেন।
একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া ৭৮ জনই ঢাকার বাসিন্দা। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা দেশের আটটি বিভাগেই ছড়িয়ে রয়েছে।
নতুন করে উপসর্গ পাওয়া ১ হাজার ৩৮৮ জনের মধ্যে ঢাকায় ৪৮১ জন, সিলেটে ১৫৭, চট্টগ্রামে ৩১১, রাজশাহীতে ৩২, ময়মনসিংহে ৮৮, বরিশালে ১৩৪, খুলনায় ১২২ এবং রংপুরে ৬৩ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১২৯ জন।
এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৪৭৮ জনের। পাশাপাশি ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
তবে নিশ্চিত হামে মৃত্যু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যান এক নয়। উপসর্গ থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ যে হাম, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বলা যায় না। তাই এই দুই হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর পরিচিত লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের টিকার সুরক্ষা নেই, তাদের ঝুঁকি বেশি।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা সংক্রমণ ছড়ানো কমাতে সাহায্য করে। হাম প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশজুড়ে উপসর্গের বিস্তার এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, টিকাদান কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

