তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধে চাপ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। মাসের শেষ দিকে আমদানি বিল পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় আসার গতি কমে যাওয়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।
গতকাল সোমবার ডলারের দর আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি প্রতি ডলারের তাৎক্ষণিক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের দিন এ দুই দর ছিল যথাক্রমে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা ও ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ডলারের দর তখন উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে প্রতি ডলারের তাৎক্ষণিক বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা। ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের ওজনযুক্ত গড় বিনিময় হার গতকাল বেড়ে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এ হার ছিল ১২৩ টাকা ৭৩ পয়সা এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
ব্যাংকারদের মতে, ডলারের দাম বাড়ার প্রধান কারণ তেল ও গ্যাস আমদানির বিপরীতে অর্থ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানির সরকারি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। তাঁর ব্যাংকেও ডলারের সামান্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে আমদানি বিল পরিশোধ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি বিল দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজারে ডলারের প্রবাহ ও চাহিদার মধ্যে মোটামুটি ভারসাম্য রয়েছে। তবে মাসের শেষ দিকে আমদানি বিলসহ বিভিন্ন বৈদেশিক দায় পরিশোধের চাপ সাধারণত বাড়ে। এর প্রভাব ডলারের বিনিময় হারেও পড়ে।
একই সময়ে প্রবাসী আয় আসার গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক ব্যবধান তৈরি হয়।
তবে প্রবাসী আয় এখনো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি বছরের ১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ২১৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও দেশের রিজার্ভের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গত ১৯ অক্টোবর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৫৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের ২ হাজার ৬৩৪ কোটি ডলারের তুলনায় তা বেশি।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং মাসের শেষ দিকে বৈদেশিক দায় পরিশোধের চাপ ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে। তবে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের বর্তমান অবস্থার কারণে পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে ডলারের সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের গতিপ্রকৃতির ওপর।

