ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-২ নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চেয়েছে সরকার। এ জন্য চলতি মাসের শুরুতে সংস্থাটির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক উন্নয়নে কারিগরি সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের সমান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ধীর থাকায় বর্তমান সরকার এগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ, পথে থাকবে যেসব এলাকা
প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাবে।
প্রস্তাবিত পথের স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি ১৫ নম্বর বা জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূঁইগড়, চাষাঢ়া ও শিব মার্কেট। এরপর রেলপথটি নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রস্তাব গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ
প্রস্তাবিত মেট্রোরেল লাইনের মোট ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি অংশ হবে উড়ালপথে।
এই লাইনের সঙ্গে ঢাকার অন্যান্য মেট্রোরেল রুটের সংযোগও রাখা হবে। গাবতলীতে এমআরটি লাইন-৫-এর উভয় রুটের সঙ্গে সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুর মেট্রো স্টেশনে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ ও লাইন-৪ এবং সাইনবোর্ডে লাইন-৪-এর সঙ্গে সংযোগ থাকবে।
এ ধরনের সংযোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বিভিন্ন অংশের মধ্যে যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি এক রুট থেকে অন্য রুটে যাত্রীদের স্থানান্তরের সুযোগ বাড়বে।
ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা
সরকার ঢাকায় মোট ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর উত্তরাংশের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পে জাপান অর্থায়ন করছে।
এদিকে এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণাংশের প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৪-এর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়ে সরকারের অপেক্ষা রয়েছে।
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরেও জাপানের অর্থায়নে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপান থেকে ছয় দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। সেখানে দুটি মেট্রোরেল লাইনের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নতুন কর্মসূচিতে মেট্রোরেল লাইন-২
বাংলাদেশের জন্য নতুন দেশভিত্তিক সহযোগিতা কর্মসূচি প্রস্তুত করছে বিশ্বব্যাংক। এই প্রেক্ষাপটে মেট্রোরেল লাইন-২-এর অর্থায়নের জন্য সংস্থাটির সহায়তা চেয়েছে সরকার।
তবে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়ার ওপর।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে ঢাকার বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বড় অঙ্কের ব্যয় ও দীর্ঘ নির্মাণপথের কারণে অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি এ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

