জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকায় নেমেছে। বিক্রি কমে যাওয়া এবং অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপ এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে জানানো হয়, এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৫২ পয়সা, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা।
হরলিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, মুনাফা কমার মূল কারণ হলো ভিত্তি বছরে ট্রেডমার্ক ও প্রযুক্তি রয়্যালটি দায় পুনর্মূল্যায়নের পর অন্তর্ভুক্ত হওয়া এককালীন আয়। এ ছাড়া আর্থিক আয় কমে যাওয়া এবং বিক্রি হ্রাসের কারণে মুনাফা কমেছে।
প্রান্তিকে কোম্পানির মোট রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকায় নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রধান পণ্য হরলিক্সের চাহিদা কম থাকাই এর কারণ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) খাতজুড়েই ভোক্তারা ব্যয়ে সতর্ক। পরিবারগুলো অনিবার্য খাদ্যপণ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এড়িয়ে চলছে। একসময় ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচিত হরলিক্স এখন ক্রমেই অপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
ওই প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যাঘাত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাজনিত ব্যয়বৃদ্ধির কারণে নিকট ভবিষ্যতেও মূল্যচাপ থাকতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়েও কোম্পানির পারফরম্যান্স দুর্বল ছিল। এ সময়ে মুনাফা ৪২ শতাংশ কমে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব ১০ শতাংশ কমে হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা।
কোম্পানির মোট রাজস্বের ৯০ শতাংশের বেশি আসে হরলিক্স থেকে। নয় মাসে এর বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে গ্লুকোজ বিক্রিও ২ শতাংশ কমেছে।
মুনাফা কমলেও কোম্পানির পরিচালনা থেকে নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ইতিবাচক হয়ে ৩৮ টাকা ১৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ১৬ টাকা ৭০ পয়সা ছিল।
কোম্পানিটি জানায়, ভিত্তি বছরে ইউজান্স পেয়েবল অ্যাট সাইট (ইউপিএএস) ঋণপত্রের বেশির ভাগ দায় পরিশোধের কারণে এবার পরিচালন নগদ বহির্গমন কম হয়েছে, যা এই উন্নতির মূল কারণ।
40

