ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও এই পরিস্থিতিতে বিপুল মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম সামাল দিতে সাধারণ মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছেন, তখন মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত মুনাফা ছাড়িয়েছে ১৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের শুধু পেট্রল ও ডিজেল কিনতেই অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১টি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানির এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত মুনাফা ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে যুদ্ধ শুরুর প্রথম মাস মার্চ এবং অক্টোবরের আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫ সালের একই ছয় মাসে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট মুনাফা ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের কম। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির নাগরিকদের পেট্রল ও ডিজেলের পেছনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। পরিবারপ্রতি এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৫০ ডলারের বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের কারণে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং বাড়তি ব্যয়ের চাপ কাদের বহন করতে হচ্ছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভার্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, সাধারণ মানুষ বিপুল মুনাফা করছে না, বরং তাদের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ইতালির মিলানভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল স্টাডিজের গবেষক নাসের আল-তামিমি মনে করেন, চলমান সংঘাত মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য একাধিকভাবে আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি আয় করছে। একই সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় তেল শোধনাগারগুলোর লাভের পরিমাণও বেড়েছে।
তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্থাপনাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ থাকায় দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের উচ্চমূল্য থেকে সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি বিক্রির সুযোগ মার্কিন কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম দুই তেল কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরনও উল্লেখযোগ্য মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত আর্থিক হিসাবে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রত্যেকের মুনাফা প্রায় ১ হাজার কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের মধ্যে ছিল।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান মুনাফা অনেক বেশি হলেও তা সাধারণভাবে ২০২২ সালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সে বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠে গিয়েছিল। প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার। যদিও এই দাম ২০২২ সালের তুলনায় কিছুটা কম, তবু জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক কোম্পানি বেশি মুনাফা অর্জন করেছে।
অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমে গেছে। এতে কার্যক্রম চালু রাখতে সক্ষম শোধনাগারগুলোর মুনাফা বেড়েছে।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান ভ্যালেরো এনার্জির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা আগের তুলনায় ছয় গুণের বেশি বেড়ে ৬৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ফিলিপস ৬৬ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ইতিহাসে কোনো এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে কোম্পানিটির নিট আয় ছিল ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬২ কোটি ডলারে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গালফ স্টেটস ইনসাইটসের সম্পাদক জিওফ্রে মিলারের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত গত কয়েক বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে অন্যতম বড় বিপর্যয় তৈরি করেছে।
তিনি মনে করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার প্রভাবে তেলের বাজারদরে বাড়তি ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে, যা থেকে সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো একই সুবিধা পাচ্ছে না। কারণ, এসব দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যয়, সরবরাহে বাধা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও অনেক উৎপাদনকারী দেশের পক্ষে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু তেল উৎপাদন ও বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও অঞ্চলটিতে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্যদেশে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ১৭২টি হামলা চালিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাঁদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। তবে সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরানের পদক্ষেপের কারণে অধিকাংশ জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও গ্যাসের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গ্রীষ্মকালে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম কমেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আলোচনা ভেঙে পড়ায় দাম আবার বেড়ে যায়।
এর মধ্যে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালিও সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
জিওফ্রে মিলার মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে বিপুল মুনাফা মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারধারীরাও বাড়তি আয় থেকে সুবিধা পেতে পারেন।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাঁর মতে, জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খাতে তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্য বিভিন্ন দেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে উৎসাহিত করতে পারে। ফলে বর্তমান মুনাফা দীর্ঘ মেয়াদেও একইভাবে বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
লন্ডনে রাবোব্যাংকের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারবিষয়ক দলের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি কৌশলবিদ ফ্লোরেন্স শ্মিটও জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত কত দিন চলবে, তা অনিশ্চিত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বাজারে পড়ছে। আগামী বছরও এসব বাজারে উচ্চমূল্য বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারগুলো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
চলমান সংঘাতের কারণে শুধু তেল নয়, পরিবহন জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং খাদ্যপণ্যের দামও বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সর্বশেষ পণ্যবাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে শস্য পরিবহনে বাধা এবং এল নিনোর কারণে আবহাওয়াগত পরিবর্তন কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২ অক্টোবর জানিয়েছে, আগস্টে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরপর সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক পরিবহনে বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকটকে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করতে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের যুক্তি, রাশিয়ার সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা হলে, যার মাধ্যমে দেশটির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম কমতে পারে। তবে একই সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্লেষকদের মতে, যেসব তেল উৎপাদনকারী দেশ চলমান সংঘাতের মধ্যেও নিয়মিত রপ্তানি কার্যক্রম বজায় রাখতে পারবে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য থেকে সুবিধা পেতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল স্টাডিজের গবেষক নাসের আল-তামিমি মনে করেন, সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে উপসাগরীয় দেশগুলোর কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট এড়াতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরির প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।
তাঁর মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমঝোতা হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যচাপ কমতে পারে। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক হামলা শুরু হলে আরেকটি আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে ভিন্নভাবে পড়ছে। একদিকে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই মূল্যচাপ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা কাটবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

