দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকায়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাজুস। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে এখন খরচ হবে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের প্রতি ভরির মূল্য হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।
স্বর্ণের নতুন মূল্য কার্যকরের পাশাপাশি অলংকার কেনাবেচার নিয়মও স্পষ্ট করেছে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, গহনার নকশা ও তৈরির ধরন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে। তবে ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে নতুন করে আলাদা ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই।
পুরোনো স্বর্ণালংকার বদল কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং সরাসরি বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ অর্থ কর্তন করতে হবে। এসব লেনদেনে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করতে হবে।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালেও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
ফলে পরপর দুই দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৮ হাজার ৮০৬ টাকা বেড়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এমন মূল্য পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের বাজার আবারও আলোচনায় এসেছে।
চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামাও হয়েছে ঘন ঘন। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ১৩৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ দফায় দাম বেড়েছে, ৬৭ দফায় কমেছে এবং এক দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।
এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা।
রুপার বাজারেও চলতি বছর একাধিকবার মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ দফায় রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ বার দাম বেড়েছে এবং ৪২ বার কমেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে রুপার মূল্য পরিবর্তন হয়েছিল ১৩ বার। সে বছর ১০ দফায় দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয়েছিল মাত্র তিনবার।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের শুরুতেই পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধিতে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা থাকা ক্রেতাদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। পরবর্তী মূল্য সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত নতুন দরেই দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা চলবে।

