দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম কিছুটা কমানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর হওয়ার কথা।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা। অক্টোবর মাসে একই জ্বালানির দাম ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দাম ছিল ১ দশমিক ১৮৮২ মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ০২৪৫ মার্কিন ডলার কমেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক রুটে কমার কারণে দুই ধরনের বিমান চলাচলের জ্বালানি ব্যয়ে ভিন্ন প্রভাব পড়বে।
এর আগে অক্টোবর মাসেও জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছিল বিইআরসি। সে সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ অক্টোবর মাসে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছিল ১৭ টাকা ৬ পয়সা।
এরপর নভেম্বরেও দাম বাড়ানোয় টানা দুই মাসে অভ্যন্তরীণ রুটের জেট ফুয়েলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সার তুলনায় নভেম্বরের নতুন দাম ২৩ টাকা ৩৮ পয়সা বেশি। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির দামেও সমন্বয় করা হয়েছে। তবে নভেম্বরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের দিক আলাদা হয়েছে।
উড়োজাহাজ পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হলো জ্বালানি। ফলে অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে, তাদের ব্যয়ের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাত্রীদের টিকিটের মূল্যও বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিমানভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানির পাশাপাশি যাত্রীচাহিদা, প্রতিযোগিতা এবং বিমান সংস্থাগুলোর নিজস্ব পরিচালন ব্যয়ও ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমানোয় সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। যদিও এই মূল্যহ্রাসের প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ও অন্যান্য ব্যয়ের ওপর।
সব মিলিয়ে নভেম্বর মাসের নতুন মূল্য সমন্বয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়ল। টানা দুই মাসের মূল্যবৃদ্ধির পর এই পরিবর্তন বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ রুটের টিকিটের দামে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

