স্থূলতা প্রতিরোধী চিকিৎসার বাজার দখলে বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন ওষুধপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার। কোম্পানিটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ প্রস্তুতকারক মেটসেরা অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে।
চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট ফিও যোগ হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। এ বাজার আগামী দশকের শুরুতে ১৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে এই খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।
ফাইজারের লক্ষ্য স্পষ্ট—লাভজনক স্থূলতা প্রতিরোধী চিকিৎসার বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। মেটসেরা অধিগ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটি এই খাতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। বর্তমানে বাজারে এগিয়ে রয়েছে নোভো নরডিস্ক ও ইলি লিলি। এরা ইতিমধ্যেই স্থূলতা প্রতিরোধী চিকিৎসার সফল ওষুধ বাজারে এনেছে এবং ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, ফাইজার কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে মেটসেরাকে দলে টানার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের ওষুধ গবেষণা ও বাণিজ্যিকীকরণে দ্রুত এগোতে পারবে। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ফাইজারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ, বিশ্বব্যাপী স্থূলতা এখন জনস্বাস্থ্য সংকটের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা থেকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে এই খাতে কার্যকর ওষুধের চাহিদা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে।
ওষুধ শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, নোভো নরডিস্ক ও ইলি লিলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে ফাইজারকে নতুন গবেষণায় বড় বিনিয়োগ করতে হবে। মেটসেরার অধিগ্রহণ সেই পথ খুলে দিচ্ছে। এ পদক্ষেপ সফল হলে ফাইজার শুধু স্থূলতা নয়, সম্পর্কিত অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধেও শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।

