মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ‘ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে’ অবস্থান করছে এবং দেশটির নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তার ভাষায়, ইরানের নেতারাই নাকি এমন বার্তা তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যদিও কীভাবে এই তথ্য তিনি পেয়েছেন—তা স্পষ্ট করেননি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে।
এদিকে, দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের পর ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, তা পুরোপুরি শর্তহীন নয়। পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি নিয়মিতভাবে তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি এখনো জটিল রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে বৈঠকে বসেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে—তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা চলছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সংঘাত কিছুটা কমেছিল, তবুও আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ায় সেটি কার্যত ভেঙে পড়ে। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীরভাবে বিদ্যমান।
সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়া আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল হওয়ায় সেই সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ, ওমান ও রাশিয়া সফর করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। মস্কোতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠক করে সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

