বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশকে দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা যায়।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৫৫তম জাতীয় বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। লক্ষ্য থাকবে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী বা ক্রীড়াবিদ হিসেবে সমান মর্যাদায় এগিয়ে যেতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ বিভিন্ন ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ চালুর কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। একই দিন সকালে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। নতুন অর্থবছর আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

