আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচির সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবর্ষের শুরু, পাঠদান এবং পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তা ধাপে ধাপে দূর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত একটি নির্ধারিত একাডেমিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়ের অপচয় কমবে এবং ফল প্রকাশ ও পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু এই পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের পরিকল্পনা। ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম শেষ করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ক্রমে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়।
তবে এই ঘোষণার সময় দেশের শিক্ষা খাতে আরেকটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সংসদে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পরীক্ষা সূচির ঘোষণা আসে। ফলে একদিকে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা পরিকল্পনার রূপরেখা সামনে এলেও, অন্যদিকে চলমান দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
শিক্ষাবিদদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে পুরো শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তবেই নতুন সময়সূচির সুফল শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়েই পাবে।

