ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিট তথা এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এবার থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে এখন থেকে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পাশাপাশি বিজ্ঞান ইউনিটেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পৃথক প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, আর পরদিন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিন্ডিকেটের সভায় তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
উল্লেখ্য, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এবার সেই একই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়ে বিজ্ঞান ইউনিটেও যুক্ত হতে যাচ্ছে।
একাডেমিক কাউন্সিলের আলোচনায় এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার ফলে দেশে মেধা পাচারের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এই শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করতে ভর্তি পরীক্ষায় তাদের উপযোগী বিশেষ সুযোগ তৈরি করা হলে তারা দেশেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা মাধ্যমের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বহুনির্বাচনী অংশে বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়, আর এর সঙ্গে যুক্ত থাকে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন কিংবা ফিন্যান্স-ব্যাংকিং-বিমা বিষয়। মোট ৬০ নম্বরের এই বহুনির্বাচনী অংশের পাশাপাশি লিখিত অংশে অনুবাদ, ভুল সংশোধনী এবং বাণিজ্যবিষয়ক প্রশ্ন মিলিয়ে সব মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে।
একই ইউনিটে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বহুনির্বাচনী অংশে বাংলা, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়, সঙ্গে থাকে গণিত, পরিসংখ্যান বা অর্থনীতির যেকোনো একটি বিষয়। লিখিত অংশে অনুবাদ, ভুল সংশোধনী এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্বাচিত বিষয়ের প্রশ্ন মিলিয়ে মোট নম্বর দাঁড়ায় একশতে।
অন্যদিকে এ-লেভেল বা সমমান পাস শিক্ষার্থীদের জন্য বহুনির্বাচনী অংশে ইংরেজি, অ্যাডভান্সড ইংরেজি এবং ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে, আর লিখিত অংশে প্রবন্ধ রচনা, ভুল সংশোধনী এবং নির্বাচিত ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন মিলিয়ে সেখানেও মোট নম্বর একশ।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রের এই সম্প্রসারিত ব্যবস্থা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে বিদেশমুখী না হয়ে দেশীয় শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকরভাবে মেধা পাচার রোধে ভূমিকা রাখে এবং বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সামগ্রিক প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে, তা নিয়ে আগামী ভর্তি প্রক্রিয়ার ফলাফলই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

