শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া এবং জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবার বড় পরিসরে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০১ জন আদর্শ ও কৃতী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো— “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ৬০ বছর”।
শিক্ষকদের পেশাগত অবদান, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ভূমিকা এবং সমাজ গঠনে তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। আগের বছরগুলোতে যেখানে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক এই স্বীকৃতি পেতেন, এবার সেই পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এবার নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষককে দেওয়া হবে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং ২ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
সম্মাননা পাওয়া ১০১ জন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষকরা। এর মধ্যে ১০ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ২০ জন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক, ২৫ জন কলেজ শিক্ষক এবং ২০ জন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০ জন শিক্ষক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্বাচিত ছয়জন শিক্ষক এই সম্মাননার আওতায় থাকছেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, বরং একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস প্রতিবছর শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে পালন করা হয়। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উদ্যোগে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে। এবারের ১০১ শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

