পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে শিক্ষার অংশ করতে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন বই যুক্ত করছে সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘খেলাধুলা’ নামের এই বই চালু হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ধাপে ধাপে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতেও এ বই চালুর পরিকল্পনা আছে। সরকারের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, মাদকমুক্ত ও শৃঙ্খলাপরায়ণ করে গড়ে তোলা।
গতকাল শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা-১৬ আসনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, জীবনের লক্ষ্য এখনই ঠিক করতে হবে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তবে সুস্থ শরীর ও সুস্থ জাতি গড়তে খেলাধুলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বইয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার উপকারিতা, পুষ্টি এবং সুস্থ থাকার জন্য কী ধরনের খাবার প্রয়োজন, সে সম্পর্কে জানতে পারবে।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের আবাসনের উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পল্লবী ও রূপনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে তিনি ইতোমধ্যে আধা-সরকারি পত্র দিয়েছেন। শিক্ষকদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও প্রস্তাব পাঠাবেন।
বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও এসেছে। প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, সরকার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে বলেও মত দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবিশ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্ষদের সভাপতি মইনুল হক মঈন, এমডিসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
এই ঘোষণার পেছনে একটি বড় প্রেক্ষাপট আছে। দেশের স্কুলগুলোতে খেলাধুলা প্রায়ই পাঠ্যক্রমের বাইরের বিষয় হিসেবে গণ্য হয়। পরীক্ষা ও ফলাফলের চাপে শিশুরা মাঠে যাওয়ার সুযোগ কম পায়। পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলাকে ঠাঁই দিলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া খেলাধুলা, পুষ্টি ও সুস্থ জীবনযাপন একসঙ্গে শেখানো গেলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরি হতে পারে।
তবে কিছু প্রশ্নও থেকে যায়। বই চালু করলেই শিশুরা খেলার সুযোগ পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক স্কুলে খেলার মাঠ বা উপকরণ নেই। প্রশিক্ষিত শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল। বইটি যদি শুধু মুখস্থ করার বিষয় হয়ে যায়, তাহলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে। তাই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মাঠ, সরঞ্জাম ও শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। বইয়ের বিষয়বস্তু, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কোন ধাপে কোন শ্রেণিতে তা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পাঠ্যক্রমে খেলাধুলার অন্তর্ভুক্তি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণাটি কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে শ্রেণিকক্ষ এবং খেলার মাঠে বাস্তব রূপ পায়।

