এনটিআরসিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন পরীক্ষার নামেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এত দিন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই পদ্ধতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে পরবর্তী পরীক্ষাটি ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হিসেবে আয়োজন না করে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নামে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
আগের পরীক্ষাগুলোতে প্রার্থীদের মূলত শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হতো। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগের জন্য আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো প্রার্থীদের। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগের বিষয়টি যুক্ত থাকবে। এতে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরেই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগসংক্রান্ত মৌখিক পরীক্ষা চলছে। এই মৌখিক পরীক্ষা আগামী ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এনটিআরসিএর।
তবে ডিসেম্বরেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর। ফলে সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষার তারিখ নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
এর আগে সর্বশেষ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। ওই পরীক্ষার প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী পরীক্ষা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন আগ্রহী প্রার্থীরা।
এই দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে পরীক্ষার কাঠামো, আবেদনপদ্ধতি, যোগ্যতার শর্ত এবং সরাসরি নিয়োগের বিস্তারিত নিয়ম সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এনটিআরসিএর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হবে। কারণ, নতুন ব্যবস্থায় শুধু নিবন্ধন সনদ অর্জনের পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সব দিক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং এনটিআরসিএর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই পরীক্ষার প্রকৃত ধরন, নিয়োগের শর্ত ও সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আপাতত নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রার্থীদের এনটিআরসিএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

