সিনেমা মুক্তির সাত বছর অতিক্রান্ত হলেও প্রেক্ষাগৃহে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর বাণিজ্যিক দাপট কমেনি। নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী শুরু হওয়ার পর বিশ্ব বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ফের নিজেদের দখলে নিয়েছে মার্ভেল স্টুডিওর এই জনপ্রিয় দ্যুতিময় সৃষ্টি। পুনর্মুক্তির পর অর্জিত রাজস্বের ওপর ভর করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’-কে পেছনে ফেলে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার মুকুট পুনরুদ্ধার করেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই সিনেমাটি সম্প্রতি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর’ শিরোনামে নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনা হয়। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) আগামী কিস্তি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ঘিরে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের তৈরি হওয়া বাড়তি আগ্রহকে পুঁজি করেই মূলত এই পুনর্মুক্তির উদ্যোগ নেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি। পুনর্মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস থেকে সিনেমাটি সংগ্রহ করেছে ৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যুক্ত হয়েছে আরও ১৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নতুন এই আয় যোগ হওয়ার পর ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর মোট বৈশ্বিক সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২.৯২৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ‘অ্যাভাটার’-এর সর্বমোট বৈশ্বিক আয় বর্তমানে ২.৯২৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে স্বল্প ব্যবধানে হলেও ‘অ্যাভাটার’-এর আয়ের রেকর্ড টপকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নম্বর সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার স্থানটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে মার্ভেলের এই ব্লকবাস্টার।
বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল নিয়ে মার্ভেল স্টুডিও এবং জেমস ক্যামেরনের মধ্যে লড়াইটি বহু পুরোনো। ২০০৯ সালে মুক্তির পর দীর্ঘ এক দশক বিশ্ব আয়ের শীর্ষে একচ্ছত্র রাজত্ব করেছিল ‘অ্যাভাটার’। ২০১৯ সালে ‘এন্ডগেম’ প্রথমবার মুক্তি পেয়ে ‘অ্যাভাটার’-এর সেই রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে উঠে আসে। পরবর্তীতে চীনসহ বিভিন্ন দেশে ‘অ্যাভাটার’ পুনরায় মুক্তি পেলে ক্যামেরনের ছবিটি আবারও শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নেয়। তবে এবার ‘এন্ডগেম এনকোর’ মুক্তির মাধ্যমে মার্ভেল আবারো তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল, যা সুপারহিরো ধারার চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

