পৃথিবীর অন্যতম বিরল উদ্ভিদ ওলেমি পাইন (Wollemi Pine), যাকে অনেকেই ‘ডাইনোসর গাছ’ নামে চেনেন। কারণ, এই প্রজাতির পূর্বপুরুষরা পৃথিবীতে টিকে ছিল ২০ কোটিরও বেশি বছর আগে—যে সময় পৃথিবীতে বিচরণ করত ডাইনোসর।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ওলেমি পাইন পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জীবাশ্ম ছাড়া এই প্রাচীন উদ্ভিদের আর কোনো অস্তিত্ব নেই বলেই মনে করা হতো।
কিন্তু ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার ওলেমি ন্যাশনাল পার্কের এক দুর্গম গিরিখাতে কয়েকটি জীবিত ওলেমি পাইন গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর থেকে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিরল প্রজাতির সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার নিয়ে কাজ করে আসছেন।
এই সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস, কিউ-তে বিখ্যাত প্রকৃতিবিদ ডেভিড অ্যাটেনবরো একটি ওলেমি পাইন গাছ রোপণ করেন।
সম্প্রতি সেই গাছটিতে প্রথমবারের মতো ফল ধরেছে, যা গবেষকদের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকা এই প্রাচীন উদ্ভিদ এখনো প্রজননে সক্ষম। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও ওলেমি পাইনের অস্তিত্ব ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।
প্রকৃতির বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী এই গাছ আজও মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীর বহু প্রাচীন জীববৈচিত্র্যের কিছু অংশ এখনো আমাদের অজান্তে টিকে আছে।

