দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর একই সময়ে নতুন করে হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩১ জন শিশু।
আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মৃত্যুগুলোর কোনোটিই নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে চিহ্নিত হয়নি—সবগুলোই হামের উপসর্গ নিয়ে ঘটা মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮১৬ শিশু, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯ জন। অর্থাৎ হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৯১৫ জনে পৌঁছেছে।
গত চব্বিশ ঘণ্টার হিসাবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ শিশু, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯৮১ জন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯২৯ শিশু, আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৭৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাব বলছে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪৪ হাজার, আর এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার শিশুর শরীরে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকা এই প্রাদুর্ভাব শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে থাকা ফাঁকফোকর এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ও ব্যাপকভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না গেলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তাঁরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুর শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে।

