দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৭টি শিশু।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনোটিই নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটেনি, বরং এগুলো হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হিসাব করলে দেখা যায়, সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মারা গেছে ৮৪৪টি শিশু। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯টি শিশু। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে সব মিলিয়ে মারা গেছে মোট ৯৪৩টি শিশু, যা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সংখ্যা।
সাম্প্রতিক চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে ৯১টি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯০টি শিশু, আবার চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে সমসংখ্যক অর্থাৎ ৮৯০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ একান্ন হাজার ৬৩৮ জনে, আর এদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আঠারো হাজার ৫৭৮ জনের। এই দীর্ঘ সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ বত্রিশ হাজার ৫৫৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে ইতিমধ্যে এক লাখ সাতাশ হাজার ৮১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই হাম পরিস্থিতি দেশের শিশু স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা টিকাদান কার্যক্রমে বিদ্যমান ফাঁকফোকর এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে থাকা সীমাবদ্ধতার দিকেই ইঙ্গিত করে। এ অবস্থায় দ্রুত ও ব্যাপক ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও চিকিৎসা সেবার আওতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি এড়ানো যায়।

