চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ঊনত্রিশ হাজার ৪৪ জন। অথচ চলতি বছরের একই সময়ের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ত্রিশ হাজার ৮৩০ জনে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১ হাজার ৭৮৬ জন বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি— তখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১১৮ জনের। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এবার মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯০৭ জন। এই নিয়ে চলতি বছর মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ত্রিশ হাজার ৮৩০ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯৪ জন রোগী। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আটাশ হাজার ৬৫২ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে— সংখ্যায় যা ৩০৫ জন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ভর্তি হয়েছেন ২০২ জন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৬১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়াই ডেঙ্গু আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অন্যতম কারণ হতে পারে। তারা মনে করছেন, মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার বিষয়টি এখনই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে আসন্ন সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে না যায়।

