জটিল রোগ নির্ণয়ে রাজধানী ও বেসরকারি হাসপাতালের ওপর রোগীদের নির্ভরতা কমাতে দেশের সাতটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, ডিজিটাল এক্স-রে, ম্যামোগ্রাফি, গ্যাস্ট্রোস্কোপি, কোলনোস্কোপি ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হবে।
জাপান ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই প্যাকেজে এসব যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এর ফলে বিভাগীয় পর্যায়েই জটিল ও গুরুতর রোগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের রাজধানীতে ছুটে আসার প্রবণতাও কমবে।
‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০২ কোটি ৩৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ২৭৫ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি—জাইকার ঋণ ৯২৬ কোটি ৫১ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন দুটি ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় সাতটি বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে।
নতুন এসব সরঞ্জাম যুক্ত হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থায়।
আধুনিক এসব যন্ত্র স্থাপনের ফলে বিভাগীয় পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ও অন্যান্য উন্নত পরীক্ষার সুযোগ স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া গেলে জটিল রোগের চিকিৎসায় ঢাকানির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আঞ্চলিক বৈষম্যও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

