Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, সেপ্টে. 10, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কর্মচাঞ্চল্য হারিয়ে নিঃশব্দ হয়ে পড়ছে মতিঝিল
    মতামত

    কর্মচাঞ্চল্য হারিয়ে নিঃশব্দ হয়ে পড়ছে মতিঝিল

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 10, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link
    ১৯৫০-এর দশকে যখন মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার পথচলা শুরু হয়, তখন এটি ছিল একটি নতুন শহরের স্বপ্ন পূরণের জায়গা।

    পুরোনো বাণিজ্যিক ভবনগুলো থেকে ভাড়াটেরা চলে গেলে সেখানে এক ধরনের নীরবতা নেমে আসে। ঠিক নীরবতা নয়, বরং যেন থমকে থাকা এক নিঃশ্বাস। আজ মতিঝিলের পথে হাঁটলে সেটি টের পাওয়া যায়। যে লিফট একসময় প্রতিদিন ৩০০ মানুষকে বহন করত, এখন সেখানে ওঠেন মাত্র তিনজন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলতে থাকা ‘টু-লেট’ সাইনটি যেন স্থাপনারই একটি অংশ হয়ে গেছে। কোনো কোনো দোকানের শাটারও আধখোলা। যে দোকান একসময় সূর্য ওঠার আগেই খুলে যেত, এখন সেখানে দিন কাটে অর্ধেক নামানো শাটারের আড়ালে।

    একসময় শাপলা চত্বর থেকে দিলকুশা পর্যন্ত এই এলাকাটি ছিল পুরো দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু আজ জায়গাটি একদম শান্ত হয়ে যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে সেইসব মানুষদের জন্য, যারা আর কোনোদিন ফিরবে না।

    ১৯৫০-এর দশকে যখন মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার পথচলা শুরু হয়, তখন এটি ছিল একটি নতুন শহরের স্বপ্ন পূরণের জায়গা। শহরটি নিজের বিশাল সব ইচ্ছে আর লক্ষ্যগুলোকে একটি জায়গায় সাজিয়ে রাখতে চেয়েছিল, যদিও তখনো সে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না যে ভবিষ্যতের সেই লক্ষ্যগুলো আসলে কতটা বড় হবে।

    পাকিস্তান সরকার ভারত থেকে আসা ভিটেমাটিহীন মোহাজের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য এই জমি অধিগ্রহণ করেছিল। সেদিন যে প্লটগুলো বণ্টন করা হয়েছিল, সেগুলোই পরবর্তীতে একটি অনাগত রাষ্ট্রের দৃশ্যমান পরিচয় তৈরি করে দিয়েছিল।

    ইস্পাহানি, বাওয়ানি গ্রুপ, আমিন ব্রাদার্স, ওমর সন্স এবং মুন সিনেমার মালিকের মতো প্রতাপশালী অবাঙালি ব্যবসায়ীর পাশাপাশি অল্প কয়েকজন বাঙালি ব্যবসায়ীও তাদের জমি পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সিরাজউদ্দিন, চাঁদ টেক্সটাইল মিলসের ফকির চাঁদ, আশেক লেনের জিল্লুর রহমান এবং বালিয়াড়ির জমিদার লাবিউদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকী।

    তখন যে ভবনগুলো গড়ে উঠেছিল, আমিন কোর্ট ও আদমজী কোর্ট ছিল সেগুলোর অন্যতম। ভবনগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে। তবে এখন সেগুলো আর আগের মতো শহরের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা নয়; বরং অনেকটা সমাধিফলকের মতো। এমন এক উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্মারক, যে উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ঢাকা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। তবু তারা আজও দাঁড়িয়ে আছে। আর ভেঙে না পড়ে নিজেদের জায়গায় টিকে থাকার মধ্যে এক ধরনের মায়াবী কোমলতা আছে।

    কয়েক দশক ধরে সবকিছু একদম ঠিকভাবেই কাজ করছিল। ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজারের ব্রোকার, সরকারি অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গাদাগাদি করে মতিঝিলের এই ছোট গণ্ডির ভেতরেই গড়ে উঠেছিল। আর বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়ছিল চারদিকে—ইত্তেফাক মোড় পার হয়ে টিকাটুলী, দৈনিক বাংলা মোড়, আরামবাগ আর ফকিরাপুল পর্যন্ত। দেখে মনে হতো, পুরো ঢাকা শহরই যেন এই ছোট কেন্দ্রটিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।

    সে সময় যারা এখানে কাজ করেছেন, তাদের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সবাই কমবেশি একই উত্তর দেবেন: অন্তত একবার হলেও মতিঝিলে সবাই গিয়েছেন।

    পুরো দেশ যেন ব্যবসা-বাণিজ্যের সব লেনদেন এখানেই করত। মতিঝিলে তিন দশকেরও বেশি সময় কাটানো প্রবীণ ব্যাংক কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম তরফদার বলেন, ‘ব্যবসা জগতের কাউকে খুঁজতে চাইলে আপনাকে মতিঝিলেই আসতে হতো। হয় এখানে অফিস ছিল, নয়তো কোনো না কোনো দিন সবাইকে এখানে আসতেই হতো।’

    তবে মতিঝিলের অর্থনীতি কখনোই কেবল ঐ ২০ তলা ভবনের চকচকে চার দেয়ালে আটকে ছিল না। এ অর্থনীতি ফুটে উঠত ফুটপাতে হাঁটু সমান উচ্চতায়, কিংবা দুপুরের খাবারের দীর্ঘ সারিতেও। মতিঝিলের এই রূপটি তার পতনের গল্পগুলোতে প্রায়ই বাদ পড়ে যায়।

    প্রতিটি তলা দখল করে থাকা ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি দুটো মিটিংয়ের মাঝের অলস সময়টুকু ভরিয়ে তুলত একেকটি চায়ের টং দোকান। ফটোকপির দোকানগুলোর আয় হতো নথিপত্র জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্তের তাড়া থেকে। আর ফুটপাতের হকাররা মিটিংয়ের ফাঁকে ছুটোছুটি করা চাকুরিজীবীদের কাছে শার্ট বা ছাতা বিক্রি করত।

    এলাকার গলির ভেতর লুকিয়ে থাকা ‘ঘরোয়া হোটেল’ বছরের পর বছর ধরে নাম কুড়িয়েছিল তার এক হাঁড়ি স্পেশাল খিচুড়ির ওপর ভর করে। খিচুড়িটি এতই লোভনীয় ছিল যে, কোনো বড় নির্বাহী কর্মকর্তাও দুপুরের অন্য সব ভারী খাবার বাদ দিয়ে চলে আসতেন। এমন এক খাবার, যার জন্য পিয়ন থেকে শুরু করে শাখা ব্যবস্থাপক পর্যন্ত সবাই পদের পার্থক্য ভুলে একই লাইনে, একদম কনুই ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতেন এক প্লেট খিচুড়ির জন্য।

    কোনো ব্যাংক বা কোম্পানির বার্ষিক হিসাবের চেয়েও মানুষের এই দীর্ঘ সারিটাই ছিল মতিঝিল জীবন্ত থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সেখানে এমন এক স্পন্দন ছিল, যা আপনি নিজে গিয়েও অনুভব করতে পারতেন।

    নাম না প্রকাশ করার শর্তে ঘরোয়া হোটেলের একজন পুরনো কর্মচারী বলেন, ‘তখন প্লেট ধোয়ার সময়টুকু পর্যন্ত পেতাম না আমরা। দুপুর হতে না হতেই বাইরে লম্বা লাইন লেগে যেত। আর এখন এমনও দিন যায়, সেই আসল ব্যস্ততাটা আর কখনোই আসে না।’

    ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো যে কারণে স্থানান্তরিত হলো

    ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দেশে যখন সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে এলো এবং রাষ্ট্র পূর্ণোদ্যমে মুক্তবাজার অর্থনীতির পথে হাঁটতে শুরু করল, ততদিনে মতিঝিলের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে আসছিল। কথাটি রূপক অর্থে তো বটেই, এমনকি আক্ষরিক অর্থে সত্য। সেখানে নতুন ভবন গড়ে তোলার মতো জায়গা আর খালি ছিল না।

    আর যতটুকু জায়গাই ছিল, তাও জট পাকিয়ে থাকত তীব্র যানজট, অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এমন সব পুরোনো ভবনে, যেগুলো স্থান নিতে চাওয়া নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার তুলনায় একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

    তাই কোনো জায়গা যখন আর প্রয়োজন মেটাতে পারে না, তখন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো যা করে, এখানেও তাই হলো; তারা সরে যেতে লাগল। প্রথমে ধানমণ্ডি, তারপর একে একে গুলশান ও বনানীতে। পরবর্তীতে আরও কিছুটা দূরে তেজগাঁওয়ে, যেখানে একসময় কারখানার শেড ছিল, এখন সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে বহুতল ভবনের বিশাল সব ক্রেন।

    এখানে আরও কিছু কারণ কাজ করেছে। এই এলাকার ঠিক পাশেই বঙ্গভবনের উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে একধরনের অদৃশ্য বাধা তৈরি করে রেখেছে; আক্ষরিক এবং প্রশাসনিক, দুই দিক থেকেই।

    কারণ, সরকারি কেপিআই বা অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি যেকোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নকশা হাতে নেওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনাপত্তি সনদ এবং ‘কেপিআই ডিফেন্স কমিটি’র ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। এটি এমন এক অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা শহরের অন্য কোনো এলাকার সাধারণত দরকার হয় না।

    মতিঝিলের অফিসগুলোর অনেক মালিকই বছরের পর বছর ধরে গুলশান বা বনানীতে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের এই যাতায়াতে ক্লান্ত হয়ে তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিকেই ঘরের কাছাকাছি নিয়ে যান।

    অফিস-আদালতের পাশাপাশি মতিঝিলের এক নীরব বিনোদন ছিলো এর সিনেমা হলগুলো। একসময় এই এলাকায় বিকেল বা সন্ধ্যা নামা মানেই মিটিংয়ের পাশাপাশি কোনো না কোনো সিনেমা দেখা। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে টয়েনবি সার্কুলার রোডের ঐতিহ্যবাহী ‘মধুমিতা’ সিনেমা হলটিও ঈদ প্রদর্শনীর পর বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। হলটি ১৯৬৭ সাল থেকে চালু ছিল এবং আশপাশের প্রায় সবকিছুকে ছাপিয়ে টিকে ছিল।

    এভাবে মতিঝিল কেবল তার ভাড়াটিয়াদেরই নয় বিকেল ৫টার পর মানুষের সেখানে অবস্থানের কারণগুলোকেও হারিয়ে ফেলেছে।

    ভিড় কখন হারিয়ে গেল

    আজ মতিঝিলে যা অবশিষ্ট আছে, তা হলো প্রতিষ্ঠানগুলো চলে যাওয়ার পরের শূন্যতা। মানুষের আনাগোনা এখন আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। অফিসগুলো ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখা মানুষের পায়ের আওয়াজও ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে।

    একসময় চাকুরিজীবীদের ওপর ভরসা করা ফেরিওয়ালারা আজ এক দিনের সামান্য আয় দিয়েই টেনেটুনে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। দুপুর গড়ানোর আগেই খালি হয়ে যাওয়া ভ্যানগুলোর পাশে ব্যবসায়ীরা এখন দাঁড়িয়ে থাকছেন দীর্ঘ সময় ধরে।

    নয়টা-পাঁচটার অফিসপাড়ার ছন্দে গড়ে ওঠা ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোও এখন এমন এক ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যে ছন্দ প্রায় হারিয়েই গেছে। সকালে নাশতার ভিড়, দুপুরের খাবারের ব্যস্ততা, বিকেল পাঁচটায় রিকশার জন্য হুড়োহুড়ি। সব মিলিয়ে যেন এমন কিছু সংগীতশিল্পী, যারা গান থেমে যাওয়ার পরও তার তালে তাল মিলিয়ে চলেছেন।

    এমনকি ‘ঘরোয়া হোটেল’-এর মতো প্রতিষ্ঠিত নামও করুণ বাস্তবতার হিসাবকে এড়াতে পারছে না। চাকুরিজীবীর সংখ্যা কমে যাওয়া মানেই বিক্রি হওয়া খিচুড়ির প্লেট কমে যাওয়া। পুরোনো নিয়মিত গ্রাহকরা যতই বিশ্বস্ত হোক না কেন; কিংবা অভ্যাসের বশে, স্মৃতির টানে কিংবা ভালোবাসার কারণে তাদের অনেকে এখনও এখানে ছুটে আসুক না কেন—আগের সেই চিত্র আর নেই।

    মতিঝিলে বহু বছর ধরে ব্যবসা করা ফুটপাতের হকার মাসুম মিয়া বলেন, ‘আগে জানতাম দুপুরের আগেই আমার বেশিরভাগ মালামাল বিক্রি হয়ে যাবে। আগে দুপুরে যে আয় হতো এখন সেটুকুর মুখ দেখতেই আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’

    এই এলাকার বাণিজ্যিক ভবনের মালিক জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ভবনগুলো তো আর হারিয়ে যায়নি—আসলে চাহিদা কমে গেছে। কোম্পানিগুলো এখন নতুন ভবন, বড় জায়গা আর সহজে যাতায়াতের সুবিধা চায়। মতিঝিল এখন আর কারো প্রথম পছন্দ নয়।’

    যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও রয়ে গেছে

    তবে মতিঝিল আজ একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়নি। একেবারে পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার মতো জায়গাও এটি নয়, বিশেষ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এখনো এখানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়টিই এর সবচেয়ে বড় শাখা।

    পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা, সোনালী, অগ্রণী, রূপালী তাদের প্রধান কার্যালয় আগের জায়গাতেই ধরে রেখেছে; ঠিক যেমন পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।

    রাজউকও সরে যায়নি। সেই সঙ্গে রয়ে গেছে কিছু বীমা কর্পোরেশন ও সরকারি সংস্থা, যারা সরে যাওয়ার মতো উপযুক্ত কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।

    এখন টিকে আছে মূলত বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এমন কিছু ব্যবসা, যেগুলো মতিঝিলের সঙ্গে এতটাই গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে সরে যাওয়ায় এই পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি এখন মূলত তাদের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে, যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় নেই।

    তবুও মতিঝিলকে ঠিক পরিত্যক্ত বলা চলে না, বরং এটি এমন এক স্মৃতি যাকে ছাপিয়ে শহরটি কেবল সামনে এগিয়ে গেছে; ঠিক যেমন মানুষ বড় হয়ে গেলে তার শৈশবের ঘরটি ছোট হয়ে আসে, কিন্তু মায়ার কারণে সেটি বিক্রি করাও সম্ভব হয় না।

    আমিন কোর্ট আর আদমজী কোর্ট আজও ধ্বংসস্তূপ হয়ে যায়নি। ভবনগুলো এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে; অলিগলিতে এখনও কিছু মানুষের আনাগোনা আছে, আর আগের মতোই তাদের দেয়ালে সন্ধ্যার রোদের আলো এসে পড়ে।

    শহরের উত্তরে এখন গুলশানের কাচঘেরা উঁচু ভবন আর তেজগাঁওয়ের আকাশ ছোঁয়া ক্রেনগুলো ঢাকার নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প বলছে। তারা জায়গা ও আকাশরেখার দখল নিতে এগিয়ে চলেছে। একসময় মতিঝিলও ঠিক এভাবেই এগিয়ে গিয়েছিল ইসলামপুর, নবাবপুর, পল্টন আর জিন্নাহ অ্যাভিনিউকে পেছনে ফেলে।

    আসলে শহরগুলো কখনো তাদের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রকে একেবারে হারিয়ে ফেলে না। তারা শুধু এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে, এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় সেই মুকুট তুলে দেয়।

    হাসান জামিলুর রহমান সৈকত

    সুত্রঃ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    রাতকো ম্লাদিচ নেই: যে বর্ণবাদী মতাদর্শ তাকে তৈরি করেছিল, তা কি এখনো বেঁচে আছে?

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    সম্পাদকীয়

    সুদের হারের ওঠানামা: মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে টান, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    আন্তর্জাতিক

    সিরিয়ার দারাতে জলই জীবন – কিন্তু, আজ সেই ভূমিই তৃষ্ণার্ত

    সেপ্টেম্বর 10, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.