দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হলো। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এতে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মারা যাওয়াদের মধ্যে ১০২ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩২ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৯১ শতাংশই উপসর্গভিত্তিক, যাদের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত করা যায়নি। এতে রোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ নমুনা পরীক্ষা না হলে রোগের প্রকৃত বিস্তার ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ কঠিন হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের মৃত্যুর তথ্য বিভাগওয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি দুজনের বিভাগ বার্তায় স্পষ্ট করা হয়নি।
একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৩ জনে। অর্থাৎ সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দুই লাখের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সেই হিসাবে মোট সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে হামের রোগীর চাপও হাসপাতালগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। মে মাসের পর সেপ্টেম্বরেই হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি হাম রোগী শনাক্ত ও ভর্তি হয়েছেন। ফলে একই সময়ে দুটি সংক্রামক রোগের মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, হাম টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি থাকলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এ অবস্থায় যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন তাঁরা। আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখাও সংক্রমণ ঠেকাতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে হামের এই প্রাণহানি উদ্বেগজনক। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার, পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

