চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের মুনাফা পতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নগদ পরিচালন প্রবাহেও নেতিবাচক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস হয়েছে ১৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।
রোববার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পরে সোমবার ডিএসইর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক অবস্থায় চলে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এটি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৪ পয়সায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ধনাত্মক ৮ পয়সা। অর্থাৎ ব্যবসার দৈনন্দিন নগদ প্রবাহেও চাপের ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫৯ পয়সা। এর আগে ২০২৫ হিসাব বছরেও দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। পরিচালনা পর্ষদ ওই বছরের জন্য শূন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করায় শেয়ারহোল্ডাররা কোনো নগদ বা বোনাস সুবিধা পাননি।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় ও নগদ প্রবাহে সাম্প্রতিক সময়ে যে চাপ দেখা যাচ্ছে, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনও তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে মুনাফা কমে যাওয়া এবং পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়া ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, শুধু হিসাবভিত্তিক মুনাফা নয়, পরিচালন কার্যক্রম থেকে প্রকৃত নগদ আয় কত হচ্ছে—সেটিও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ ধারাবাহিকভাবে নগদ প্রবাহ দুর্বল থাকলে ভবিষ্যতে কোম্পানির বিনিয়োগ, দাবি পরিশোধ ও লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন কোম্পানির প্রকৃত আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমানের দিকে। ফলে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারদরেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

