পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা হ্রাসের মুখে পড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ কমে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৪ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
যদিও প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে, তবুও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। ওই বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬৯ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের ২০ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি নির্দেশ করে।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ২ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ জুন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বীমা খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় না পাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় প্রভাব পড়ছে। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাম্প্রতিক আর্থিক ফলও সেই চাপের প্রতিফলন হতে পারে।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এছাড়া কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৪৩ কোটির বেশি টাকা।
শেয়ার মালিকানার চিত্র অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১২ শতাংশের কিছু বেশি শেয়ার, আর বাকি অংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী প্রান্তিকগুলোতে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিনিয়োগ আয়ের ধারা কেমন থাকে, সেটিই বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

