ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। এই আলোচনায় আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যা ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক কৌশলে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে দুই পক্ষই আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে ভ্যান্সের সঙ্গে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই এই দলটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনজনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা ইঙ্গিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি ‘সম্মানজনক সমাধান’ বা কূটনৈতিক বের হওয়ার পথ খুঁজছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাই এখন মূল লক্ষ্য।
গত শনিবার প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনার পর থেকে ভ্যান্স, উইটকফ এবং কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনা ভেঙে যায়নি বরং তা পরবর্তী ধাপের দিকে এগোচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তার এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা জোরালো করেছে।
তবে বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে অবস্থানগত পার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতার পথ এখনও কঠিন, তবুও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।

