মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরান সফরে গেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) তিনি তেহরানে পৌঁছান, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরানে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ সংস্থা জানিয়েছে, এই সফর মূলত আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং চলমান সংকট মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা কেন্দ্রিক।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি; বরং পাকিস্তানের মাধ্যমে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
তিনি আরও জানান, তেহরানে ইরানি প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর থেকে একাধিকবার এই বার্তা বিনিময় হয়েছে এবং এতে ইরানের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কোনো নতুন বিষয় নয়, তবে এর মাত্রা ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে, জাতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অধিকার ইরানের থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের মাটিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

