মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝেও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে—এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চলছে। এরই মধ্যে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল মনে করছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা সম্ভব হতে পারে।
আঞ্চলিক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারা ধারণা করছেন, উভয় পক্ষই শিগগিরই আবার আলোচনার টেবিলে বসবে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে অন্তত আরও দুই সপ্তাহ মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন মধ্যস্থতাকারীরা, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে এই মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ। এই ইস্যুগুলোতে সমঝোতা অর্জনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরবর্তী দফার আলোচনা সমন্বয় করা।
সূত্রগুলো বলছে, খুব শিগগিরই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

