দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি আজুয়ায় প্রদেশের মলেতুরো এলাকায়। পাহাড়ি ও দুর্গম সড়কে দ্রুতগতিতে চলতে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়, মুহূর্তেই ঘটে যায় ভয়াবহ প্রাণহানি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। তবে দুর্গম এলাকা ও কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জরুরি সেবা সংস্থা ইসিইউ৯১১ জানায়, এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত ২৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারে, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল কুয়েনকা শহরের কাছাকাছি, যা ইকুয়েডরের অন্যতম জনবহুল শহরগুলোর একটি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশটির পাহাড়ি ও বাঁকানো সড়কগুলো প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা পৌঁছায় ২ হাজার ৩৭৩ জনে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, দুর্বল সড়ক নিরাপত্তা এবং পাহাড়ি রাস্তার ঝুঁকি মিলেই এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। ফলে শুধু দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জননিরাপত্তা সংকট হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই সর্বশেষ দুর্ঘটনা আবারও ইকুয়েডরের পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে প্রতিদিনই হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত করছে।

