যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পর ফেরার পথে ইরানি প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তায় নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিয়েছিল পাকিস্তান। সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার শঙ্কায় যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো বহরকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে ইরানি প্রতিনিধিদল দেশে ফেরার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে। আশঙ্কা ছিল, তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রায় দুই ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে বহরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য উন্নত এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যা পুরো অভিযানে নজরদারি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল।
সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় ব্যর্থতার পর ইরানি প্রতিনিধিরা পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক মনে করেননি। তাদের ধারণা ছিল, ফেরার পথে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। সেই শঙ্কাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দুজনই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি ছিল বলে জানা যায়।
কিছু সূত্রের দাবি, ইসরায়েলের সম্ভাব্য ‘টার্গেট তালিকায়’ তাদের নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদিও এই বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো বহরকে শুধু পাকিস্তানের আকাশসীমা নয়, বরং প্রায় তেহরান পর্যন্ত নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। এমনকি ভবিষ্যত আলোচনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও ভাবা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিরাপত্তা অনুরোধ করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই পাকিস্তান নিজ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নিরাপত্তা অভিযান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার গভীর প্রতিফলন। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও আস্থার ঘাটতি এবং সামরিক শঙ্কা যে কতটা গভীর—এই ঘটনাই তার বড় উদাহরণ।
সব মিলিয়ে, আলোচনার টেবিলে বসা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চারপাশে নিরাপত্তা, ভয় এবং কৌশলগত হিসাব-নিকাশ অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠছে—এ ঘটনাই সেই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

