বিশ্বজুড়ে যখন রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন গোপনে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে চলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে বেশ কিছু নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে গ্রাম উচ্ছেদ, বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং রহস্যময় গম্বুজাকৃতির ভবন নির্মাণ। এসব কার্যক্রমকে পারমাণবিক কর্মসূচির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে ‘সাইট ৯০৬’ নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকা এই স্থানে এখন নতুন ভবন, সুড়ঙ্গ এবং শক্তিশালী গম্বুজ কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই গম্বুজটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম নিরাপদে সংরক্ষণ এবং গোপন পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। এর মাধ্যমে চীন তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম আরও সুরক্ষিত ও গোপন রাখতে চাইছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সংশ্লিষ্ট ১৩৬টি স্থাপনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশেই সম্প্রসারণ কাজ চলছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব স্থাপনার মোট আয়তন প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বেড়েছে—যা এই কর্মসূচির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন এমন নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল। বিশেষ করে একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ছোট আকারের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ওপর তারা জোর দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে বেইজিং। চীনের দাবি, তাদের পারমাণবিক নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং তারা কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না। তাদের মতে, বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান ইস্যুতে যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এই ধরনের উন্নয়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই এখন পর্যন্ত তা অনুসমর্থন করেনি। ফলে এই চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, চীনের এই গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির খবর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়—এটি কেবল কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে, নাকি সত্যিই বিশ্বকে আবারও একটি নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবে।

