আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে আবারও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পূর্ব উপকূলসংলগ্ন সাগরে এই উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এটি উত্তর কোরিয়ার সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং শুধু এপ্রিল মাসেই চতুর্থবার। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে সিনপো শহরের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। এগুলো পূর্ব উপকূলের সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপান সরকারও একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই স্পষ্ট করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক মনোযোগ বর্তমানে ইরানকে ঘিরে থাকায় উত্তর কোরিয়া এটিকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। লিম ইউল-চুল মনে করেন, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নিতে চাইছে।
উত্তর কোরিয়ার এসব কার্যক্রম জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। তাদের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য সামরিক শক্তি বাড়ানো তাদের সার্বভৌম অধিকার।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র চালু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দেশটির নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া এখন স্থায়ীভাবে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প নেই।
সব মিলিয়ে, ধারাবাহিক এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

