যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে ব্যস্ত সময় পার করছে। সাময়িকভাবে সংঘাত কমে এলেও দেশটি এই সময়কে ব্যবহার করছে অস্ত্রভান্ডার আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস শাখার কমান্ডার মাজিদ মুসাভি এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুদ্ধবিরতির সময়টিকে তারা কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। তার মতে, এই সময়ের মধ্যে ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন লঞ্চারগুলো আধুনিকায়ন ও পুনরায় প্রস্তুত করছে।
সাক্ষাৎকারের সঙ্গে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পরিদর্শন করতে দেখা যায়, যা ইরানের সামরিক প্রস্তুতির গভীরতা এবং গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের স্থাপনা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মুসাভি আরও দাবি করেন, ইরানের প্রতিপক্ষরা এই যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠনে ততটা সফল হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান এই সুযোগে নিজেদের সক্ষমতা এমনভাবে বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি এক বিবৃতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র—সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ইরান কোনো ধরনের চাপ বা আগ্রাসনের মুখে পিছু হটবে না। প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের ওপর আরও জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতি এখানে কেবল সংঘাত থামানোর একটি সাময়িক অবস্থা, কিন্তু বাস্তবে এটি দুই পক্ষের জন্যই পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সময় হয়ে উঠেছে। ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট, কারণ তারা এই সময়কে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে সামরিক প্রতিযোগিতা থেমে নেই। বরং যুদ্ধবিরতির আড়ালেই শক্তির ভারসাম্য নতুন করে গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

