যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আজই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এখন স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, যা বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প কঠোর অবস্থানও জানান। তার ভাষায়, যদি আজ সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও এখনো ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে চুক্তি সই নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এর আগের আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। এই দলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা আলোচনার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।
এই পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল না। সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো সেই দীর্ঘ স্থবিরতা ভাঙার একটি ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
বর্তমানে ইসলামাবাদে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত। একদিকে চুক্তি সইয়ের দাবি, অন্যদিকে কঠোর হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। ইরান শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

